| |
               

মূল পাতা ইসলাম যার ঈমান যত মজবুত তার মূল্য তত বেশি: মাওলানা খোরশেদুল হক পাকিস্তান


যার ঈমান যত মজবুত তার মূল্য তত বেশি: মাওলানা খোরশেদুল হক পাকিস্তান


  14 January, 2023     11:05 AM    


রহমত নিউজ

বাদ ফজর বয়ান (শনিবার, ১৪-০১-২০২৩)
মাওলানা খোরশেদুল হক পাকিস্তান
শ্রুতিলিখন: মুহাম্মাদ শাহাদাত হুসাইন
সম্পাদনা: আ ফ ম আকরাম হুসাইন 


হামদ ও সালাতের পর মাওলানা খোরশেদুল হক বলেছেন,  মানুষের মধ্যে অনেকে ধনী, অনেকে গরীব আবার অনেকে সুন্দর এবং কেউ অসুন্দর । এই সবের মধ্যে কোন কামিয়াবী নাই । তাই আল্লাহ তাআলা এগুলোর মধ্যে পার্থক্য রেখেছেন। কিন্তু যার মধ্যে সফলতা ও কামিয়াবী রয়েছে তার মধ্যে কোন পার্থক্য রাখেননি বরং তা সবাইকে সমানভাবে দান করেছেন। আর তা হলো, অন্তর। এই অন্তর দিয়ে আল্লাহ তাআলাকে চেনা যাবে। এটা দিয়েই মানুষ দামী থেকে দামী হবে। এর মাধ্যমেই মানুষ ঈমানের মত দৌলত হাসিল করতে পারবে। যার ঈমান যত মজবুত তার মূল্য তত বেশি।

ঈমানওয়ালারাই কামিয়াবী। দিল এমন এক জিনিস যার মাধ্যমে মানুষ ঈমান অর্জন করতে পারে। আর এই ঈমানের মাধ্যমে একজন ভিখারীও আল্লাহর কাছে বাদশাহর চেয়েও দামি বলে বিবেচিত হয়। ঈমান অর্জনকারী এই দিলকে আল্লাহ তাআলা সকল স্তরের মানুষের জন্য আম করে দিয়েছেন।

একজন দুনিয়ার বাদশাহ যদি আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য ঈমানকে গ্রহণ করে, এক্বিনকে তাঁজা করে তাহলে তিনি দুনিয়ায় কামিয়াব হবেন। আখেরাতেও কামিয়াব হবেন। আল্লাহ তাআলার কাছে তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে দামী হবেন। ঈমান যেই গ্রহণ করবে সেই আল্লাহর কাছে  দামী হয়ে যাবে। সে ধনী হোক বা গরীব হোক। সে বাদশাহ হোক বা ফকির হোক। সে কালো হোক বা সুন্দর হোক। আল্লাহ তাআলা অনেক নবীকেও বাদশাহী দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা ইউসুফ আঃ, সুলাইমান আঃ সহ আরো অনেক নবীকে পয়গম্বর বানানোর সাথে সাথে রাজত্বও দান করেছেন। আর তারা নিজেরাও  সংশোধীত ছিলেন, তাদের দিলের ইয়াকিন ঠিক ছিল। এবং তারা মানুষকেও সংশোধন করেছেন ও দিলের ইয়াকিন ঠিক করে দিয়েছেন। যারা তাদের কথা গ্রহণ করেছে তারা আল্লাহর কাছে দামী হয়েছে।‌ যারা গ্রহণ করেনি তারা কামিয়াব হতে পারেনি।

সর্বপ্রথম আমাদের দিলের ইয়াকিন ঠিক করতে হবে। একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে সব কিছু হয় এই ইয়াকিন দিলে ফিট করতে হবে। এই ইয়াকিন দিলে পয়দা করতে পারলে আল্লাহ তাআলা দামি বানিয়ে দিবেন। ইব্রাহিম আঃ কে আল্লাহ তাআলা নমরুদের নিকট পাঠিয়েছেন। তিনি তাকে দাওয়াত দিতে গিয়েছেন কিন্তু সে দাওয়াত গ্রহণ না করে ইব্রাহিম আঃ এর হাত পা বেঁধে আগুনে নিক্ষেপ করেছিলেন। ফিরিস্তারা এসে বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি বললে আমরা আপনাকে সাহায্য করবো। নবী আঃ বললেন , তোমাদেরকে কে পাঠিয়েছে? তাঁরা বললেন, আল্লাহ! ইব্রাহিম আঃ বললেন, যে আল্লাহ তোমাদেরকে পাঠাতে পারেন সে আল্লাহই আমাকে সাহায্য করবেন। এই আগুনে ইব্রাহিম আঃ এর কোন ক্ষতি হয়নি। আগুন আরামের জায়গায় পরিণত হয়ে গেছে। ইব্রাহিম আঃ এর মুখের শেষ বাণী ছিল حسبي الله আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি সবকিছুর উপর ইয়াকিনকে জায়গা করে দিয়েছেন তাই আগুন তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারেনি।

একবার সফরের সময় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গাছের সাথে তরবারি ঝুলিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। এক কাফের এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরবারী ধারণ করে বলল,  আমার হাত থেকে তোমাকে কে বাঁচাবে? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়াকিনকে সর্বোচ্চ স্থানে রেখে‌ বললেন, আল্লাহ্! এই একটি মাত্র শব্দ শুনে কাফেরের হাত কাঁপতে কাঁপতে তরবারী পড়ে গেলো। এবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তরবারী হাতে নিয়ে বললেন, এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে বাঁচাবে? কাফেরের অন্তরে ঈমান ছিল না। তার অন্তরে ইয়াকিন ছিল না। সে জবাব দিলো, আপনি উত্তম তরবারি ধারণকারী হয়ে যান। উত্তম তরবারি ধারণকারী কখনো কারো উপর তরবারী উঠায়না।

মুহতারাম ভাই! আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মত ইয়াকিন অন্তরে পয়দা করতে হবে তাহলে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে দামী বনে যাবো ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদেরকে ইহকাল ও পরকালে সফলতা দান‌ করবেন। 

আম্বিয়া আঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দাওয়াত নিয়ে এসেছেন তা হলো, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ। সমস্ত নবীরাই এই কালিমার  দাওয়াত দিয়েছেন। এই কালিমার দাওয়াত দিতে গিয়ে পয়গম্বরগণ আনেক কষ্ট সহ্য করেছেন, অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ইব্রাহিম আঃ কে আল্লাহ তাআলা পরীক্ষা করেছেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি এক সন্তানের বাবা হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর সন্তান ও স্ত্রীকে বর্তমান বাইতুল্লাহয় রেখে আসতে নির্দেশ দিলেন। তিনি তার স্ত্রী সন্তানকে সেখানে রেখে আসলেন। তার স্ত্রী কোন দ্বীধা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। বালুকাময় এই ভূমিতে স্ত্রী-সন্তানকে রেখে তিনি চলে গেলেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সেখানে কিভাবে সাহায্য করেছেন তা আমরা সবাই জানি।

ইব্রাহিম আঃ তাঁদেরকে সামান্য খেজুর ও পানি দিয়ে চলে গেলেন। আস্তে আস্তে সব শেষ‌ হয়ে গেলো। শিশু ইসমাইল পিপিসায় ছটফট করতে লাগলেন। তিনি পানির জন্য সাফা মারওয়ায় দৌঁড়াতে লাগলেন। বিবি হাজেরার ইয়াকিন‌ ছিল‌ আল্লাহ তাআলা তাদেরকে মারবেন‌না। কোননা কোন‌ভাবে আল্লাহ জাল্লাহ শানুহু ব্যবস্থা করবেন। তিনি এদিক সেদিক দৌড়াতে লাগলেন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে সাহায্য করলেন।‌ ইসমাইল আঃ এর পায়ের নিচ থেকে পানি বের হতে‌ লাগলো‌। তা আবে জমজম নামে পরিচিত। তার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিয়ামত পর্যন্ত এই পানি জারি থাকবে। যে যেই নিয়তে এই পানি পান‌ করবে আল্লাহ তার সে নিয়তই কবুল করবেন। আল্লাহর উপর ইয়াকিন তাদেরকে দামী বানিয়েছে। তাদের এই কষ্ট ক্লেশকে কবুল করেছেন। কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই কষ্টকে নিদর্শন হিসেবে রেখে দিয়েছেন।

এক মহিলা তার বাচ্চাকে কিভাবে তরবিয়াত করেছেন; আল্লাহ প্রথমত ইব্রাহিম আঃ কে‌ তার জানের উপর পরীক্ষা নিয়েছেন, এরপর‌ তার সন্তানের উপর এবং বাচ্চা একটু বড় হতেই এবার বাচ্চাকে জবেহ করার নির্দেশ দিলেন। তিনি তার সন্তানের সামনে এই প্রস্তাব পেশ‌ করলেন। ইসমাইল আঃ সেটা মেনে নিয়ে বললেন, হে আব্বা আপনার উপর যে নির্দেশ এসেছে‌ তা পালন করুন। আমাকে ধৈর্য্যশীলদের মধ্যে পাবেন ইনশাআল্লাহ।

ইব্রাহিম আঃ ও তার সন্তানদের ইয়াকিন আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেছেন। ইব্রাহিম আঃ সন্তানের গলায় সমস্ত শক্তি দিয়ে ছুড়ি চালানোর পরও গলা কাটলো না। বরং তার পরিবর্তে জান্নাতের দুম্বা কোরবানী হয়ে গেলো।‌ আল্লাহু আকবার। এটাই ছিল মহান আল্লাহর পরীক্ষা।

আম্বিয়া আঃ কালিমার উপর ইস্তেকামাত ছিলেন তাই আল্লাহ তাদেরকে কামিয়াব করেছেন। যারা ঈমান‌ আনেনি তারা কামিয়াব হতে পারেনি। যারাই দ্বীলের ইয়াকিনকে ঠিক করবে আল্লাহ তাদেরকেই কামিয়াব করবেন। 

ঈমান-ইয়াকিনের সবচেয়ে বড় মেহনত করেছেন আম্বিয়া আঃ। তারা নিজেরা দামি ছিলেন এবং মানুষকেও দামী করেছেন। তাঁরা মানুষের দ্বারে গিয়ে এই কালিমার দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। মানুষের ইয়াকিন ঠিক করে দিয়েছেন। আমাদেরকেও এই পথে অটল থাকতে হবে। আমাদের ঈমানকে তাঁজা করতে হবে। দ্বীলের ইয়াকিনকে মজবুত করতে হবে। তাহলে আল্লাহ আমাদেরকেও দুনিয়া ও আখেরাতে দামী করে দিবেন। ইনশা আল্লাহ্‌।