| |
               

মূল পাতা রাজনীতি বিএনপি অনুমতি না দিলেও নয়াপল্টনে সমাবেশ হবে : গয়েশ্বর


অনুমতি না দিলেও নয়াপল্টনে সমাবেশ হবে : গয়েশ্বর


  24 November, 2022     03:03 PM    


রহমত নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি না মিললেও ঘোষণা অনুযায়ী বিএনপি সেখানেই সমাবেশ করবে। ইতিমধ্যে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তারা (প্রশাসন) অনুমতি দিতে যদি অপারগ হয় আমরা করব। ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ আমরা যেখানে বলেছি, সেখানেই হবে। এটা হবেই। এটা অনুমতির অপেক্ষা লাগবে না। অনুমতি দিলেও করব, না দিলেও করব। মনে রাখতে হবে, দেশটা আমাদের সকলের।

আজ (২৪ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা জেলার নবনির্বাচিত কমিটির নেতাদের নিয়ে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা জেলার সাবেক সভাপতি দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, জেলা সিনিয়র সহসভাপতি শাহ মাইনুল হোসেন বিল্টু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলামসহ অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

গয়েশ্বর বলেন, ১০ ডিসেম্বর বিএনপির রাজধানীর সমাবেশ ঘিরে সরকার সংঘাত চায়। ইতিমধ্যে আমাদের সাতটি সমাবেশ হয়ে গেছে। সব জায়গাতেই আওয়ামী লীগ সরকার সংঘাতের সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে। প্রশাসন দিয়ে চেষ্টা করেছে, গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে দিয়ে চেষ্টা করেছে। কোনো পথ তো তারা বাকি রাখে নাই আর নতুন কোনো পথও খোলা রাখে নাই। বিএনপি ‘সরকারের ফাঁদে’ পা দেবে না, সুতরাং ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর সমাবেশে তারা সংঘাত সৃষ্টি করবে- এটা স্বাভাবিক মনে করতেছি, অস্বাভাবিক না। রাতারাতি এরা ভালো হয়ে যাবে এটাও আমরা আশা করি না। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা সরকারের ফাঁদে পা দেব না। সংঘাত এড়িয়েই আমরা সমাবেশে আসব।

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ একাধিক দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক সমাবেশের অংশ হিসেবে আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে কর্মসূচির ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটি নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে আবেদনও করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন দলের একাধিক নেতা দলটিকে অন্য কোথাও সমাবেশ করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিএনপি সমাবেশে ১০ লাখ লোক জড়ো করতে চায়- এমন ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নেতারা। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নয়াপল্টনে ১০ লাখ মানুষ জমায়েতের মতো জায়গা নেই। তাই তাদের অন্য জায়গায় সমাবেশ করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ পরামর্শ দিয়েছেন পূর্বাচলে সমাবেশের।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে ঢাকার বাইরের এই এলাকা ছাড়াও গাজীপুরের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান বা মিরপুরের কালসী বেছে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তারা সমাবেশের জন্য নয়াপল্টনই চায়। খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ একাধিক দাবিতে বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক সমাবেশ করছে বিএনপি। ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে প্রথম সমাবেশ করে দলটি। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ফরিদপুর ও সবশেষ সিলেটে গণসমাবেশ হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে নির্বিঘ্নে সমাবেশ পালন করতে পারলেও পরের সমাবেশগুলো করতে গিয়ে পরিবহন ধর্মঘটের সম্মুখীন হয় বিএনপি। সমাবেশের আগের দিন থেকে নানা অজুহাত দেখিয়ে পরিবহন ধর্মঘট ডাকছেন এ খাতের মালিক-শ্রমিকরা।